ভূমির খতিয়ান বা ভূমি রেকর্ড – এর পূর্ণরূপ এবং খতিয়ান চেনার উপায় ।

খতিয়ান

ভূমির খতিয়ান বা ভূমি রেকর্ড – এর পূর্ণরূপ এবং খতিয়ান চেনার উপায়

====================================================

মৌজা ভিত্তিক ভূমির নকশা ও ভূমির মালিকানা সম্পর্কিত খতিয়ান বা ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত কার্যক্রমকে ভূমি জরিপ বলা হয়। জরিপের মাধ্যমে নতুন মৌজা নকশা ও রেকর্ড তৈরী করা হয় ও পূর্বে প্রস্তুতকৃত নকশা ও রেকর্ড সংশোধন করেও ভূমির শ্রেণীর পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে এবং মালিকানার পরিবর্তনের ধারাবাহিবতার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ কওর হালকরন করা হয়। এ যাবত কাল পর্যন্ত চার বার রেকর্ড কার্যক্রম চালান হয় এ দেশে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৪ ধরনের খতিয়ান রয়েছে

যথা –

(১) সি,এস খতিয়ান, (২) এস, এ খতিয়ান

(৩) আর, এস খতিয়ান, (৪) বি, এস খতিয়ান / সিটি জরিপ।

সি, এস(CS) Cadastral Survey খতিয়ানঃ

সিএস খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- Cadastral Survey.ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪০ সালে সরকার জরিপের মাধ্যমে যে খতিয়ান প্রস্তত করেন তাকে সি, এস খতিয়ান বলে।১৮৮৮ সালে(ভূমি মন্ত্রণালয় অনুসারে ১৮৮৭) সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে এই জরিপ পরিচালিত হয়ে বলে এটাকে ভারত উপমহাদেশে প্রথম জরিপ বলা হয়।এই জরিপ ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ম পরিচ্ছেদ অনুসারে সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারাদেশে পরিচালিত হয়।উক্ত জরিপের মাধ্যমে জমির বিস্তারিত মৌজা নক্সা (ম্যাপ) প্রস্তুত করা হয়।এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপূর্বক ভূমির বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণি, পরিমাণ. খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।এ জরিপ পি-৭০ শীটে কিস্তোয়ারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সি, এস জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্স-বাজার রামু থানা থেকে আরম্ভ হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় শেষ হয়।সে সময় সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অধীন থাকায় সিলেট জেলায় সিএস জরিপ হয়নি।তবে জরুরী বিবেচনায় সিলেট প্রজাস্বত্ত্ব আইনের আওতায় সিলেট জেলার ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে ১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সা

সি, এস জরিপের সময় প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে এবং দখলদার রায়তের নাম খতিয়ানের নিচে লেখা হতো।সে সময় জমিদারগণ সরকার পক্ষে জমির মালিক ছিলেন এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে ভোগ দখলে প্রথম এই জরিপের নক্সা ও খতিয়ান খুবই নিখুঁত এবং নির্ভরযোগ্য হিসেবে এখনো গ্রহণযোগ্য।এটাকে সকল কাজের বেস ধরে মামলা মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সি, এস খতিয়ানকে প্রাধান্য দেয়া হ

সি, এস/ CS খতিয়ান চেনার উপায়

১. এটা উপর থেকে নিচে লম্বালম্বিভাবে থাকবে,

২. এপিট ওপিট উভয় পৃষ্ঠায় হবে

৩. প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার এবং প্রজার নামে দুইটা ভাগ থাকবে,

৪. সবার উপরে লেখা থাকবে “ বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৩” (এটা সব ফরমে একই থাকবে),

৫. অপর পৃষ্ঠায় “উত্তর সীমানা” নামে একটা কলাম থাকবে।

 

এস, এ (SA) State Acquisition খতিয়ানঃ

এস, এ খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- State Acquisition খতিয়ান১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২৭ হতে ৩১ ধারা অনুযায়ী ১৯৫৬-৬০ সালে যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস, এ (State Acquisition) খতিয়ান বলে।১৯৫০ সালে জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।২/৪/১৯৫৬ তারিখে এই আইনের ৩ ধারা আওতাধীন বিজ্ঞপ্তি মূলে সরকার কর্তৃক সকল জমিদারি দখল নেয়ার পর উক্ত অ্যাক্টের ১৭ ধারা মোতাবেক যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তা এস, এ খতিয়ান নাম

মূলতঃ জমিদারি ও মধ্যস্বত্ব বিলোপ করে জমিদারগণকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের তালিকা প্রনয়ন এবং ভূমি মালিকগণকে /রায়তকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করার লক্ষ্যে সে সময় একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ ও রেকর্ড সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা পরবর্তীতে এস, এ খতিয়ান বলে পরিচিত পায়।১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়।জরিপে ভূমি মালিকের নাম ও জমির বিবরণাদি সম্বলিত হাতে লেখা রেকর্ড/খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়, যার মধ্যে একটি জেলা রেকর্ড রুমে এক কপি তহশিল(ইউনিয়ন ভুমি অফিস) অফিসে এবং অন্যটি সার্কেল পরিদর্শক (উপজেলা রাজস্ব) অফিসে প্রদান করা হয়।জরুরী তাগিদে জমিদারগণ হতে প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে এই জরিপ পরিচালিত হয়।এটাকে পি, এস(Pakistan Survey) জরিপও বলে কারণ এটা পাকিস্তান আম

এস, এ(SA) খতিয়ান চেনার উপায়১. এই খতিয়ান সবসময় আড়াআড়ি ভাবে ২. এইটা সবসময় হাতে লিখা হয়(প্রিন্ট হবেনা)৩. এই খতিয়ানে সাবেক খতিয়ানের (CS) এবং হাল নম্বরটা থাকবে৪. এইটা এক পৃষ্ঠায় হবে।

 

আর,এস(RS) Revisional Survey খতিয়ানঃ

আর,এস খতিয়ান এর পূর্ণরূপ হলো- Revisional Survey

[RS খতিয়ান তৈরি হয় এসএ খতিয়ানের অধীনএই আইনের ১৪৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেন এরূপ খতিয়ানকে বলা হয় আর,এস খতিয়ান (Revisional Survey)। সি, এস জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সু৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়।জমির অবস্থা, প্রকৃতি, মালিক, দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার লক্ষ্যে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়।এস, জরিপের সময় সরেজমিনে তদন্ত বা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা হয়নি।জমিদারদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এস, এ জরিপ বা খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় বলে তাতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুটি থেকে যায়। এই ত্রুটি-বিচ্যুটি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চরে সরেজমিনে ভুমি জরিপ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা আর, এস বা Revisional Survey জরিপ হিসেবে পরিচিত।এই জরিপে প্রস্তুতকৃত নকশা(ম্যাপ) এবং খতিয়ান নিভূল হিসেবে

আর, এস/ RS খতিয়ান চেনার উপায়

১. ফরম এর সবার উপরে হাতের ডান পাশে লেখা থাকবে “রেসার্তে নং”,

২. আগে সাধারনত ২ পৃষ্ঠায় হত, এখন এই খতিয়ান ১ পৃষ্ঠায় হ

৩. এটাও উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ভাবে হয়।

বি,এস খতিয়ান/ সিটি জরিপঃ

১৯৯৮-৯৯ সাল হতে বর্তমানে চলমান জরিপকে বি, এস খতিয়ান বা সিটি জরিপ বলে। যাহা এখনো চলমান।সিটি জরিপের আরেক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ।আর, এস জরিপের পর বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সাল থেকে এ উদ্যেগ নেয়।এ যাবৎকালে এটি আধুনিক ও সর্বশেষ জরিপ এটি।এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট-এ প্রকাশিত হয

বি,এস খতিয়ান / City Survey খতিয়ান চেনার উপায১. এই খতিয়ানে ৯ টা কলাম থাকবে,২. এতে আরো বলা থাকবে কি ধরনের জমি নিয়ে খতিয়ানটা(যেমনঃ নাল জমি, পুকুর)।

 

দিয়ারা জরিপঃ দিয়ারা জরিপ হলো দরিয়া সম্পর্কিত জরিপ।জেগে উঠা নতুন ভূখন্ড(চর) জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে সিকস্তি বা পয়স্তির কারণে ভৌগলিক সীমারেখা ও স্বত্বের পরিবর্তন হলে নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় নতুন জরিপ করা হয়।এ সমস্ত জরিপে নক্সা ও রেকর্ড তৈরি করা হয়।এটি অতি পুরাতন জরিপ।ক্যাডাস্টাল জরিপ আরম্ভ হয় ১৯৮৮ সালে, পক্ষান্তরে দিয়ারা জরিপ আরম্ভ হয় ১৯৬২ সালে।দিয়ারা জরিপ সাধারণ জরিপের জন্য প্রযোজ্য সকল স্তর অনুসরণ করে পয়স্তি ভূমির(চর) নক্সা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়।দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে ৪ টি (রাজশাহী, নরসিংদী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম) আঞ্চলিক অফিসসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের মাধ্যমে সারাদেশে সুনির্দিষ্ট কিছু মৌজায় এ জর

=================================================================

ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট অথবা জমি ক্রয় অথবা বিক্রয়ের জন্য ভিসিট করুন https://aabason.com/ আমাদের ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট অথবা জমি বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্পূর্ণ সহজ, ঝামেলাহীন এবং সম্পূর্ণ ফ্রী।

আমাদের সকল প্রপার্টি এর ভিডিও দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল aabason ভিসিট করুন।

আমাদের চ্যানেলের ভিডিওটি ভাল লাগলে আমাদের চ্যানেলটি Subscribe করতে পারেন এবং আমাদের নতুন ভিডিও এর আপডেট পেতে বেল বাটনটি ক্লিক করুন।

আপনাদের প্রতিষ্ঠানের কোন ভিডিও করাতে চাইলে যোগাযোগ করুন-

Phone –

Anwar Hossain : 01818-103698 (Imo & What’s app)

Anwar Hossain : 01775-549 500

Email : anwar.aabason@gmail.com

=================================================================

নিজে জানুন এবং অন্যকে জানাতে শেয়ার করতে পারেন।

Join The Discussion

Compare listings

Compare
বিজ্ঞাপন দিন